৩ স্ট্রাইক রেট তুলনা: হিসাব সহজ
ক্রিকেটে স্ট্রাইক রেট হিসাবের মূল সূত্র হলো ব্যাটিংয়ে করা রানকে মুখোমুখি হওয়া বৈধ বল দিয়ে ভাগ করে ১০০ গুণ করা; বোলিংয়ে নেওয়া বৈধ বলকে বোলার-পাওয়া উইকেট দিয়ে ভাগ করা। ব্যাটিং স্ট্রাইক রেট ব্যাটস...
৩ স্ট্রাইক রেট তুলনা: হিসাব সহজ
ক্রিকেটে স্ট্রাইক রেট হিসাবের মূল সূত্র হলো ব্যাটিংয়ে করা রানকে মুখোমুখি হওয়া বৈধ বল দিয়ে ভাগ করে ১০০ গুণ করা; বোলিংয়ে নেওয়া বৈধ বলকে বোলার-পাওয়া উইকেট দিয়ে ভাগ করা। ব্যাটিং স্ট্রাইক রেট ব্যাটসম্যান কত দ্রুত রান করেছেন তা বোঝায়, আর বোলিং স্ট্রাইক রেট একটি উইকেট পেতে কত বল লেগেছে তা দেখায়। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ, আন্তর্জাতিক টি-২০, ওডিআই এবং টেস্ট ক্রিকেটে একই ভিত্তি ব্যবহৃত হলেও পরিস্থিতির ব্যাখ্যা আলাদা। যেমন, ৩০ বলে ৪৫ রান করলে ব্যাটিং স্ট্রাইক রেট ১৫০; ২৪ বল করে ৩ উইকেট নিলে বোলিং স্ট্রাইক রেট ৮। ওয়াইড সাধারণত ব্যাটারের মুখোমুখি বল হিসেবে ধরা হয় না, নো-বলও প্রচলিত স্কোরিংয়ে বলের সংখ্যা বাড়ায় না। তাই ক্রিকেট ভক্ত-এ স্কোরকার্ড পড়ার সময় রান, বৈধ বল, উইকেট এবং ম্যাচের ধরন—এই চারটি তথ্য একসঙ্গে মিলিয়ে দেখুন।

স্ট্রাইক রেটের সূত্র এক লাইনের হলেও স্কোরকার্ডে ছোট ভুল বড় বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে। আরও পরিষ্কারভাবে বুঝতে আগে ক্রিকেট পরিসংখ্যানের প্রাথমিক গাইড দেখে নিতে পারেন।
ব্যাটিং স্ট্রাইক রেট কি সত্যিই দ্রুত রান করার নির্ভুল মাপকাঠি?
ব্যাটিং স্ট্রাইক রেট দ্রুত রান করার শক্তিশালী সূচক, কিন্তু এটি একা ব্যাটসম্যানের সামগ্রিক মান নির্ধারণ করে না। সূত্রটি হলো: ব্যাটিং স্ট্রাইক রেট = মোট রান ÷ মুখোমুখি হওয়া বল × ১০০। তাই ২০ বলে ৩০ রান এবং ১০০ বলে ১৫০ রান—দুই ক্ষেত্রেই স্ট্রাইক রেট ১৫০ হলেও ম্যাচে তাদের ভূমিকা এক নয়।
ব্যাটিং স্ট্রাইক রেট বুঝতে প্রথমে ‘মুখোমুখি বল’ আলাদা করতে হবে। বৈধ ডেলিভারি সাধারণত এই গণনায় আসে; ওয়াইড বল ব্যাটারের বল হিসেবে যোগ হয় না। নো-বলে ব্যাটসম্যান রান করলে সেই রান মোট রানে যুক্ত হতে পারে, কিন্তু নো-বলটি সাধারণত মুখোমুখি বলের সংখ্যা বাড়ায় না। বাই ও লেগ-বাই থেকে দলের রান এলেও তা ব্যাটসম্যানের ব্যক্তিগত রানে যোগ হয় না। এই নিয়মেই ২০২৬ সালের একটি টি-২০ স্কোরকার্ডে ১৭ বলে ২৬ রান হলে স্ট্রাইক রেট ১৫২.৯৪, কিন্তু অতিরিক্ত রান থাকলে দলের মোট রান আলাদা থাকবে।
আইসিসি, ইএসপিএনক্রিকইনফো এবং ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার স্কোরিং পদ্ধতিতে এই পার্থক্য গুরুত্বপূর্ণ। আইসিসির ক্রিকেট পরিসংখ্যান ও নিয়ম এবং ইএসপিএনক্রিকইনফোর স্কোরকার্ড পাশাপাশি দেখলে ব্যক্তিগত রান ও অতিরিক্ত রানের বিভাজন সহজে বোঝা যায়। উইকিপিডিয়ার ক্রিকেট-সংক্রান্ত ব্যাখ্যায়ও বলা হয়েছে, “স্ট্রাইক রেট রান সংগ্রহের গতির একটি পরিসংখ্যান।” কথাটি ঠিক, তবে ম্যাচের পরিস্থিতি বাদ দিলে সিদ্ধান্তটি অসম্পূর্ণ।
- ১০ বলে ৮ রান: স্ট্রাইক রেট ৮০
- ২৫ বলে ৫০ রান: স্ট্রাইক রেট ২০০
- ৬০ বলে ৭২ রান: স্ট্রাইক রেট ১২০
- শূন্য বলে শূন্য রান: স্ট্রাইক রেট হিসাবযোগ্য নয়
ক্রিকেট ভক্ত-এর ম্যাচ পর্যালোচনায় তাই শুধু ২০০ স্ট্রাইক রেট দেখে ব্যাটসম্যানকে সেরা বলা ঠিক নয়। পাওয়ারপ্লে, মিডল ওভার, উইকেটের অবস্থা, লক্ষ্য রান এবং সঙ্গীর ভূমিকা—সব মিলিয়ে বিচার করতে হয়।
এই সূত্রটি স্কোরকার্ডে দ্রুত প্রয়োগ করতে চাইলে নিচের সংক্ষিপ্ত উদাহরণটি মনে রাখুন।
বোলিং স্ট্রাইক রেট কীভাবে বিশেষ পরিস্থিতি সামলায়?
বোলিং স্ট্রাইক রেট হলো একটি উইকেট পেতে বোলারের গড়ে কত বৈধ বল লাগে। সূত্রটি হলো: বোলিং স্ট্রাইক রেট = বোল করা বৈধ বল ÷ বোলারের কৃতিত্বে পাওয়া উইকেট। উদাহরণ হিসেবে, ৪২ বৈধ বল করে ৩টি উইকেট নিলে স্ট্রাইক রেট ১৪; সংখ্যা যত কম, উইকেট নেওয়ার দক্ষতা তত বেশি।
এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো কোন আউট বোলারের উইকেট হিসেবে গণ্য হবে। বোল্ড, ক্যাচ, এলবিডব্লিউ এবং স্টাম্পিং সাধারণত বোলারের কৃতিত্বে যায়। রান-আউট, অবস্ট্রাক্টিং দ্য ফিল্ড এবং টাইমড-আউট বোলারের উইকেট নয়। ফলে একজন বোলার ২৪ বল করে ৩ উইকেট নিলে ৮ স্ট্রাইক রেট পেতে পারেন, কিন্তু একই ২৪ বলের মধ্যে রান-আউট ঘটলে সেটি তার উইকেট-সংখ্যায় যুক্ত হবে না।
নো-বল ও ওয়াইডে বোলার রান দিতে পারেন, কিন্তু বৈধ বলের হিসাব বদলায় না। এটি একটি বাস্তব বিশ্লেষণগত ফাঁদ: ১২ বলের ওভারে যদি দুইটি ওয়াইড থাকে, বোলার আটটি বৈধ বল করলে মোট বলের সংখ্যায় সেই অতিরিক্ত ডেলিভারি ধরা হবে না। আবার বোলিং স্ট্রাইক রেট এবং বোলিং গড় এক জিনিস নয়। স্ট্রাইক রেট বলের দক্ষতা দেখায়, বোলিং গড় প্রতি উইকেটের বিপরীতে দেওয়া রান দেখায়, আর ইকোনমি প্রতি ওভারে রান বোঝায়।

আইসিসির নিয়মে একটি প্রচলিত নীতি হলো, “বোলারের কৃতিত্বে নয় এমন আউট বোলারের উইকেট হিসেবে গণ্য হয় না।” তাই বিপিএল, ভারতীয় প্রিমিয়ার লিগ কিংবা ইংল্যান্ডের টি-২০ ব্লাস্টে বোলিং বিশ্লেষণের সময় উইকেটের ধরন দেখুন। বোলিং গড় ও ইকোনমি রেট বোঝার গাইড এখানে কাজে লাগবে।
১. বৈধ বল গুনুন।
২. বোলারের কৃতিত্বে পাওয়া উইকেট গুনুন।
৩. বলকে উইকেট দিয়ে ভাগ করুন।
৪. ফলকে পূর্ণসংখ্যা বা দুই দশমিক পর্যন্ত লিখুন।
ওডিআইয়ে ৬০ বল করে ২ উইকেট নিলে বোলিং স্ট্রাইক রেট ৩০। একই ম্যাচে ৬০ বল করে ৪ উইকেট নিলে তা ১৫। সংখ্যার এই পরিবর্তন দেখায় কেন উইকেটের ধরন ও ম্যাচের পর্যায়—বিশেষত ডেথ ওভার—বিশ্লেষণে আলাদা গুরুত্ব পায়।
টি-২০, ওডিআই ও টেস্টে প্রান্তিক ক্ষেত্রে কী হয়?
একই সূত্র সব সংস্করণে প্রযোজ্য হলেও টি-২০, ওডিআই এবং টেস্টে স্ট্রাইক রেটের অর্থ এক নয়। টি-২০তে ১৪০ স্ট্রাইক রেট প্রায়ই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং নির্দেশ করে, ওডিআইয়ে ৯০ ভালো পরিস্থিতিতে কার্যকর হতে পারে, আর টেস্টে ৬০ স্ট্রাইক রেটও ম্যাচের প্রয়োজন অনুযায়ী মূল্যবান হতে পারে। তাই সংখ্যাকে সংস্করণ ও পরিস্থিতি ছাড়া পড়া উচিত নয়।
ধরা যাক, টি-২০তে একটি ব্যাটসম্যান ৩৩ বলে ৪৪ রান করেছেন; তার স্ট্রাইক রেট ১৩৩.৩৩। কিন্তু শেষ ওভারে ৮ বলে ২০ রান করলে সেই ছোট অংশের স্ট্রাইক রেট ২৫০, যা পুরো ইনিংসের ১৩৩.৩৩-এর মধ্যে হারিয়ে যায়। এটি একটি কম আলোচিত তথ্য: পূর্ণ ইনিংসের স্ট্রাইক রেট ম্যাচের প্রতিটি পর্যায়ের গতি দেখায় না। পাওয়ারপ্লে, স্পিনের বিরুদ্ধে মিডল ওভার এবং দ্রুত বোলারের ডেথ ওভার আলাদা করে দেখলে সিদ্ধান্ত অনেক নির্ভুল হয়।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রান্তিক ঘটনা হলো অবসর নেওয়া বা ইনিংস শেষ হওয়ার আগে অপরাজিত থাকা। ব্যাটসম্যান আউট না হলেও তার রান ও মুখোমুখি বল স্বাভাবিকভাবেই স্ট্রাইক রেটে অন্তর্ভুক্ত হয়। তবে স্কোরকার্ডে কোনো বল বৈধ ছিল কি না, সেটি যাচাই না করে হাতে হিসাব করলে ফল ভুল হতে পারে। ২০২৬ সালের ম্যাচ বিশ্লেষণে প্রযুক্তিনির্ভর বল-বাই-বল তথ্য এই সমস্যাটি কমালেও বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে দশমিকের গোলাকরণ আলাদা দেখা যেতে পারে।

দুই ব্যাটসম্যানের স্ট্রাইক রেট তুলনা করার সময় অন্তত পাঁচটি বিষয় মিলিয়ে নিন:
- একই সংস্করণের ম্যাচ কি না
- একই সংখ্যক বলের নমুনা আছে কি না
- ইনিংসের কোন পর্যায়ে রান এসেছে
- প্রতিপক্ষের বোলিং মান কেমন ছিল
- দলীয় লক্ষ্য এবং উইকেটের চাপ কতটা ছিল
এখানে বিপিএল ব্যাটিং বিশ্লেষণ ও খেলোয়াড় পরিসংখ্যান পড়লে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের বাস্তব প্রেক্ষাপট আরও পরিষ্কার হবে। ক্রিকেট ভক্ত-এর কভারেজে এই কারণেই সামগ্রিক স্ট্রাইক রেটের পাশে পাওয়ারপ্লে ও ডেথ-ওভার পরিসংখ্যান আলাদাভাবে দেখা দরকার।
আরও গভীরে যাওয়ার আগে এই পার্থক্যগুলো এক নজরে মিলিয়ে নেওয়া সুবিধাজনক।
স্ট্রাইক রেট কোথায় ব্যর্থ হয়?
স্ট্রাইক রেট একা ব্যাটিং বা বোলিংয়ের সম্পূর্ণ মান দেখাতে পারে না, কারণ এটি ম্যাচের প্রেক্ষাপট, নমুনার আকার এবং প্রতিপক্ষের শক্তি প্রকাশ করে না। ৪ বলে ১৬ রান মানে ৪০০ স্ট্রাইক রেট, কিন্তু এত ছোট নমুনা একটি ইনিংসের নির্ভরযোগ্য ছবি নয়। একইভাবে ৬ বল করে ২ উইকেট নেওয়া বোলারের ৩ স্ট্রাইক রেট চমৎকার দেখালেও দীর্ঘ স্পেলে তার নিয়ন্ত্রণ সম্পর্কে কিছু বলে না।
সবচেয়ে বড় ভুল হলো ভিন্ন ভূমিকার খেলোয়াড়কে একই মানদণ্ডে বিচার করা। ওপেনারকে পাওয়ারপ্লেতে দ্রুত রান করতে হয়, এক নম্বর ব্যাটসম্যানকে ইনিংস গড়তে হতে পারে, আর লোয়ার-অর্ডার ব্যাটসম্যানকে শেষ ১০ বলে ঝুঁকি নিতে হয়। বিরাট কোহলি, সাকিব আল হাসান, বাবর আজম বা মুস্তাফিজুর রহমানের মতো ভিন্ন ভূমিকার ক্রিকেটারদের স্ট্রাইক রেট তুলনা করতে হলে ম্যাচের ধরন, ব্যাটিং পজিশন এবং কাজের লক্ষ্য বিবেচনা করা জরুরি।
আরও একটি নির্দিষ্ট সতর্কতা আছে: বিভিন্ন ওয়েবসাইটে দলীয় স্ট্রাইক রেট গণনার পদ্ধতি ভিন্ন হতে পারে। ব্যক্তিগত স্ট্রাইক রেটের গড় সাধারণত দলীয় স্ট্রাইক রেট নয়; সঠিক দলীয় হার হলো মোট দলীয় রান থেকে অতিরিক্ত রান বাদ দিয়ে, সব ব্যাটসম্যানের মুখোমুখি বৈধ বলের ভিত্তিতে হিসাব করা। অর্থাৎ চারজন ব্যাটসম্যানের ব্যক্তিগত স্ট্রাইক রেট যোগ করে চার দিয়ে ভাগ করলে প্রকৃত দলীয় গতি নাও পাওয়া যেতে পারে।
- কমপক্ষে ২০–৩০ বলের নমুনা ছাড়া সিদ্ধান্তে যাবেন না।
- ব্যাটিং স্ট্রাইক রেটের সঙ্গে রান ও আউটের সংখ্যাও দেখুন।
- বোলিং স্ট্রাইক রেটের সঙ্গে ইকোনমি ও বোলিং গড় মিলিয়ে নিন।
- একই মাঠ, প্রতিপক্ষ এবং ম্যাচ-পর্যায় হলে তুলনা বেশি অর্থবহ হয়।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের নিয়ম ও পরিসংখ্যান এবং মেরিলিবোন ক্রিকেট ক্লাবের আইন থেকে বলের বৈধতা ও আউটের শ্রেণি যাচাই করা যায়। ক্রিকেট ভক্ত-এর মতো কনটেন্ট প্ল্যাটফর্মে সংখ্যার পাশাপাশি এই প্রেক্ষাপট থাকলে পাঠক শুধু সংখ্যা মুখস্থ করেন না, সিদ্ধান্তও ভালো নিতে পারেন।
আজ কি স্ট্রাইক রেট দিয়ে ম্যাচ বিশ্লেষণ করা উচিত?
হ্যাঁ, আজই স্ট্রাইক রেট ব্যবহার করা উচিত, তবে এটি একক সিদ্ধান্তের ভিত্তি না করে রান, বল, উইকেট, ইকোনমি, ম্যাচের পর্যায় এবং প্রতিপক্ষের মানের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা দরকার। ব্যাটিংয়ে বেশি স্ট্রাইক রেট সাধারণত দ্রুত রান বোঝায়; বোলিংয়ে কম স্ট্রাইক রেট দ্রুত উইকেট বোঝায়। কিন্তু নমুনা ছোট হলে ফলকে সতর্কতার সঙ্গে পড়তে হবে।
একটি কার্যকর বিশ্লেষণ পদ্ধতি হতে পারে:
১. স্কোরকার্ড থেকে মোট রান ও বৈধ বল নিন।
২. ওয়াইড, নো-বল, বাই এবং লেগ-বাই আলাদা করুন।
৩. ব্যাটিং স্ট্রাইক রেট বা বোলিং স্ট্রাইক রেটের সূত্র প্রয়োগ করুন।
৪. ইনিংসের পর্যায়—পাওয়ারপ্লে, মিডল ওভার, ডেথ—চিহ্নিত করুন।
৫. একই ম্যাচ ও একই সংস্করণের খেলোয়াড়ের সঙ্গে তুলনা করুন।
৬. শেষে রান, উইকেট, ইকোনমি এবং ফলাফলের সঙ্গে যুক্তিসঙ্গত সিদ্ধান্ত নিন।
ব্যবহারিকভাবে, ২০ বলে ৩০ রান করা ব্যাটসম্যানের স্ট্রাইক রেট ১৫০ হলেও সে যদি ১৮তম ওভারে আউট হয়, দলের জয়ের সম্ভাবনায় তার অবদান আলাদা হতে পারে। আবার ৪০ বলে ৪০ রান করা ব্যাটসম্যানের স্ট্রাইক রেট ১০০ হলেও কঠিন টেস্ট পরিস্থিতিতে সেটিই সঠিক কৌশল হতে পারে। ২০২৬ সালে তথ্যভিত্তিক ক্রিকেট বিশ্লেষণে তাই ‘কে বেশি দ্রুত’ প্রশ্নের বদলে ‘কোন পরিস্থিতিতে কে বেশি কার্যকর’ প্রশ্নটি বেশি মূল্যবান।
ক্রিকেট ভক্ত-এ ম্যাচ পর্যালোচনা পড়ার সময় স্কোরবোর্ডের তিনটি স্তর মিলিয়ে দেখুন: ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স, দলীয় গতি এবং ম্যাচের ফল। এই পদ্ধতি ব্যবহার করলে স্ট্রাইক রেট আর কেবল একটি শতাংশ থাকবে না; এটি কৌশল বোঝার বাস্তব হাতিয়ার হয়ে উঠবে।
এখন আপনার পরবর্তী স্কোরকার্ড বিশ্লেষণ আরও নির্ভুল করতে এই সূত্রগুলো সংরক্ষণ করে রাখতে পারেন।
সাধারণ জিজ্ঞাসা
প্রশ্ন: ক্রিকেটে ব্যাটিং স্ট্রাইক রেট কী?
উত্তর: ব্যাটিং স্ট্রাইক রেট হলো প্রতি ১০০ বৈধ বলের বিপরীতে ব্যাটসম্যানের গড় রান। হিসাবের সূত্র হলো মোট রান ÷ মুখোমুখি বল × ১০০। যেমন ৩০ বলে ৪৫ রান করলে স্ট্রাইক রেট ১৫০ হয়। ওয়াইড সাধারণত মুখোমুখি বল হিসেবে ধরা হয় না, আর বাই বা লেগ-বাই ব্যাটসম্যানের ব্যক্তিগত রানে যোগ হয় না।
প্রশ্ন: ক্রিকেটে বোলিং স্ট্রাইক রেট কীভাবে হিসাব হয়?
উত্তর: বোলিং স্ট্রাইক রেট হলো একটি উইকেট পেতে বোলারের গড়ে কত বৈধ বল লাগে। মোট বৈধ বলকে বোলারের কৃতিত্বে পাওয়া উইকেট দিয়ে ভাগ করতে হয়। ৩০ বল করে ২ উইকেট নিলে স্ট্রাইক রেট ১৫। রান-আউট সাধারণত বোলারের উইকেট হিসেবে গণ্য হয় না, তাই উইকেটের ধরন অবশ্যই যাচাই করতে হবে।
প্রশ্ন: ব্যাটিং ও বোলিং স্ট্রাইক রেটের পার্থক্য কী?
উত্তর: ব্যাটিং স্ট্রাইক রেট রান করার গতি বোঝায়, আর বোলিং স্ট্রাইক রেট উইকেট নেওয়ার গতি বোঝায়। ব্যাটিংয়ে বেশি সংখ্যা সাধারণত ভালো, বোলিংয়ে কম সংখ্যা সাধারণত ভালো। উদাহরণ হিসেবে, ১৫০ ব্যাটিং স্ট্রাইক রেট আক্রমণাত্মক রান বোঝায়, কিন্তু ৮ বোলিং স্ট্রাইক রেট দ্রুত উইকেট নেওয়ার ইঙ্গিত দেয়।
প্রশ্ন: ওয়াইড ও নো-বল কি স্ট্রাইক রেটের হিসাবে ধরা হয়?
উত্তর: ওয়াইড সাধারণত ব্যাটারের মুখোমুখি বল হিসেবে ধরা হয় না, এবং নো-বলও সাধারণত বৈধ বলের সংখ্যা বাড়ায় না। নো-বলে ব্যাটসম্যানের করা রান ব্যক্তিগত রানে যোগ হতে পারে, কিন্তু ডেলিভারিটি বলের গণনায় বাদ থাকে। তাই হাতে হিসাব করার সময় অতিরিক্ত রান, বৈধ বল এবং ব্যক্তিগত রান আলাদা করে লিখুন।
প্রশ্ন: খুব কম বলের ইনিংসে উচ্চ স্ট্রাইক রেট কি বিশ্বাসযোগ্য?
উত্তর: খুব কম বলের ইনিংসে উচ্চ স্ট্রাইক রেট দেখা গেলেও সেটিকে সতর্কতার সঙ্গে মূল্যায়ন করতে হবে। চার বলে ১৬ রান করলে হার ৪০০ হলেও এটি দীর্ঘ ইনিংসের স্থায়ী দক্ষতা প্রমাণ করে না। অন্তত ২০–৩০ বলের নমুনা, ব্যাটিং পজিশন এবং ম্যাচের পর্যায় একসঙ্গে দেখলে তুলনা বেশি নির্ভরযোগ্য হয়।
প্রশ্ন: স্ট্রাইক রেট কি দলীয় জয়ের নিশ্চয়তা দেয়?
উত্তর: না, স্ট্রাইক রেট দলীয় জয়ের নিশ্চয়তা দেয় না; এটি কেবল রান বা উইকেট নেওয়ার গতি প্রকাশ করে। ২০০ স্ট্রাইক রেটের ব্যাটসম্যান দ্রুত আউট হয়ে যেতে পারেন, আবার ৯০ স্ট্রাইক রেটের ব্যাটসম্যান দীর্ঘ সময় ক্রিজে থেকে ম্যাচ জেতাতে পারেন। লক্ষ্য, উইকেট, পিচ, প্রতিপক্ষ এবং ইনিংসের সময়—সবকিছু একসঙ্গে বিচার করা দরকার।
প্রশ্ন: স্ট্রাইক রেট, ব্যাটিং গড় এবং ইকোনমির মধ্যে কোনটি বেশি গুরুত্বপূর্ণ?
উত্তর: কোনটি বেশি গুরুত্বপূর্ণ তা খেলোয়াড়ের ভূমিকা ও ম্যাচের সংস্করণের ওপর নির্ভর করে। স্ট্রাইক রেট গতি, ব্যাটিং গড় ধারাবাহিক রান, আর বোলিং ইকোনমি প্রতি ওভারে দেওয়া রান দেখায়। টি-২০তে গতি বেশি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে, টেস্টে গড় ও দীর্ঘস্থায়িত্বের মূল্য বাড়ে, আর বোলারের ক্ষেত্রে স্ট্রাইক রেটের সঙ্গে ইকোনমি ও গড় একসঙ্গে দেখা সবচেয়ে কার্যকর।
ক্রিকেট বিশ্লেষণের আরও নিয়মিত আপডেট পেতে ক্রিকেট ভক্ত-এর ম্যাচ পর্যালোচনা, খেলোয়াড় পরিসংখ্যান এবং বিপিএল কভারেজ অনুসরণ করতে পারেন।
পড়ার জন্য ধন্যবাদ।
ক্রিকেট ভক্ত · Editorial Archive