বিষয়বস্তুতে যান বিষয়বস্তুতে যান
প্রবন্ধ

এলবিডব্লিউর ভিতরে: ৫ ধাপে সিদ্ধান্ত

এলবিডব্লিউ হলো এমন আউট, যেখানে বৈধ ডেলিভারি ব্যাটসম্যানের শরীরে বা প্যাডে লাগে এবং আম্পায়ারের বিচারে বলটি স্টাম্পে আঘাত করত। সিদ্ধান্তের জন্য চারটি বিষয় একসঙ্গে মিলতে হয়: বল কোথায় পিচ করেছে, শরীরে...

১ নভেম্বর, ২০২৬ 5 min read
এলবিডব্লিউর ভিতরে: ৫ ধাপে সিদ্ধান্ত
❦

এলবিডব্লিউর ভিতরে: ৫ ধাপে সিদ্ধান্ত

এলবিডব্লিউ হলো এমন আউট, যেখানে বৈধ ডেলিভারি ব্যাটসম্যানের শরীরে বা প্যাডে লাগে এবং আম্পায়ারের বিচারে বলটি স্টাম্পে আঘাত করত। সিদ্ধান্তের জন্য চারটি বিষয় একসঙ্গে মিলতে হয়: বল কোথায় পিচ করেছে, শরীরে কোথায় লেগেছে, ব্যাটে আগে স্পর্শ হয়েছে কি না এবং বল স্টাম্পে লাগত কি না। ক্রিকেটের নিয়মে অফ স্টাম্পের বাইরে পিচ করা বল সাধারণত এলবিডব্লিউ নয়, তবে ব্যাটসম্যান শট না খেললে অফ স্টাম্প লাইনে আঘাতও বিবেচিত হয়। ২০২৬ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে মাঠের আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত ডিআরএসে বল-ট্র্যাকিং, ব্যাট-স্পর্শ শনাক্তকরণ এবং আম্পায়ার্স কলের মাধ্যমে যাচাই করা যায়। মনে রাখুন, সামনের পা ক্রিজের বাইরে গেলেই এলবিডব্লিউ হয় না; আসল বিষয় হলো বলের পথ ও স্টাম্পে লাগার সম্ভাবনা। সিদ্ধান্ত বোঝার সহজ উপায় হলো আগে ‘পিচ’, তারপর ‘ইমপ্যাক্ট’, শেষে ‘উইকেট’—এই তিন ধাপ আলাদা করে দেখা।

টেলিভিশন সম্প্রচারে বলটি প্যাডে আঘাত করার পর বোলারদের আবেদন ও আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত দেখা যেতে পারে। একই ধরনের দৃশ্যে ব্যাটসম্যান কখনও আউট, কখনও নটআউট হতে পারেন—বিষয়টি বেশ বিভ্রান্তিকর লাগে। বলটি কোথায় পড়ল, প্যাডে কোথায় লাগল, ব্যাট আগে এসেছিল কি না এবং স্টাম্পে পৌঁছালে কী হতো—এই চার প্রশ্নের উত্তরেই আসল রহস্য। নিচে পুরো প্রক্রিয়াটি সহজ ভাষায় ব্যাখ্যা করা হলো।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট মাঠে আম্পায়ার এলবিডব্লিউ আবেদন বিবেচনা করছেন, ব্যাটসম্যান প্যাডে হাত রাখছেন

এলবিডব্লিউয়ের নিয়ম নিয়ে আরও পরিষ্কার ধারণা পেতে ক্রিকেট ভক্তের ব্যাখ্যাটি সংরক্ষণ করে রাখুন।

আরও জানুন

কী তুলনা করা হলো?

এলবিডব্লিউ সিদ্ধান্তে মূলত পিচের অবস্থান, শরীরে আঘাতের স্থান, ব্যাটের আগে বা পরে সংযোগ এবং কাল্পনিক বলের গতিপথ তুলনা করা হয়। এই চার পরীক্ষার মধ্যে একটি ব্যর্থ হলে সাধারণত এলবিডব্লিউ দেওয়া যায় না, যদিও অফ স্টাম্পের বাইরে আঘাতের ক্ষেত্রে ব্যাটসম্যান শট খেলেছেন কি না আলাদা নিয়ম তৈরি করে।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের খেলার আইনসমূহ এবং মেরিলেবোন ক্রিকেট ক্লাবের আইন ৩৬ অনুযায়ী এলবিডব্লিউ বিচার করার সময় বলটি বৈধ ডেলিভারি হতে হবে। নো-বল হলে ব্যাটসম্যানকে এলবিডব্লিউ আউট করা যায় না। মেরিলেবোন ক্রিকেট ক্লাবের আইন ৩৬-এর মূল বক্তব্যের বাংলা সারাংশ হলো: “বলটি ব্যাটে না লেগে শরীরে লাগলে এবং স্টাম্পে আঘাত করার সম্ভাবনা থাকলে ব্যাটসম্যান এলবিডব্লিউ হতে পারেন।” এখানে ‘সম্ভাবনা’ মানে আম্পায়ারের অনুমান নয়; বলের গতি, দিক ও উচ্চতা মিলিয়ে স্টাম্পে পৌঁছানোর বাস্তব হিসাব।

প্রথম গুরুত্বপূর্ণ তুলনা হলো বল পিচ করার জায়গা। বলটি যদি দুই স্টাম্পের মাঝের লাইনে বা অফ স্টাম্পের ভেতরের অংশে পিচ করে, এলবিডব্লিউয়ের দরজা খোলা থাকে। কিন্তু বল যদি লেগ স্টাম্পের বাইরে পিচ করে, সাধারণত এলবিডব্লিউ হয় না—বল পরে প্যাডে লাগলেও নয়। এই অংশটি অনেক দর্শক বাদ দেন, অথচ এখানেই বহু আবেদন শুরুতেই শেষ হয়ে যায়।

দ্বিতীয় তুলনা হলো ব্যাটের সঙ্গে শরীরের সংযোগের ক্রম। বল আগে ব্যাটে লাগলে পরে প্যাডে লাগলেও এলবিডব্লিউ নয়। হাত যদি ব্যাট ধরে থাকে, সেই হাত ও ব্যাটকে একই ইউনিট হিসেবে ধরা হয়; ফলে ব্যাট ধরে থাকা হাতের গ্লাভসে আগে বল লাগলে সেটি ব্যাটে লাগার মতো বিবেচিত হতে পারে। ক্রিকেটের মৌলিক আউটের নিয়ম

দ্রুত যাচাইয়ের চারটি প্রশ্ন

১. ডেলিভারিটি কি নো-বল ছিল?
২. বলটি কি লেগ স্টাম্পের বাইরে পিচ করেছিল?
৩. বল কি ব্যাটে আগে স্পর্শ করেছিল?
৪. প্যাডে না লাগলে বল কি স্টাম্পে আঘাত করত?

সেটআপ ও প্রথম নজরে কী বোঝা যায়?

এলবিডব্লিউ বোঝার সবচেয়ে কার্যকর সেটআপ হলো ঘটনাটিকে তিনটি স্থির বিন্দুতে ভাগ করা: পিচ, ইমপ্যাক্ট এবং উইকেট। প্রথমে বল কোথায় মাটিতে পড়েছে দেখুন; তারপর শরীরের কোন অংশে ও কোন লাইনে আঘাত করেছে দেখুন; সবশেষে কল্পনা করুন, শরীর সরিয়ে দিলে বলটি স্টাম্পে পৌঁছাত কি না। এই ধারাটি অনুসরণ করলে টেলিভিশনের রিপ্লে, মাঠের সিদ্ধান্ত এবং ডিআরএস—তিনটিই অনেক সহজ লাগে।

সামনের পা ক্রিজের বাইরে থাকা নিয়ে সাধারণ ভুল ধারণা আছে। ব্যাটসম্যানের পা স্টাম্পের সামনে বা ক্রিজের বাইরে থাকলেও সেটি নিজে কোনো সমস্যা নয়; প্যাডের আঘাত স্টাম্পের লাইনে হয়েছে কি না, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ। আবার পেছনের পা অফ স্টাম্পের বাইরে থাকলেও বল শরীরের অন্য অংশে লাগার মুহূর্তের অবস্থান বিচার করতে হয়। অর্থাৎ ব্যাটসম্যানের পা কোথায়, সেটি সহায়ক দৃশ্যমান তথ্য; চূড়ান্ত শর্ত নয়।

শট খেলার চেষ্টা করেছেন কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। ব্যাটসম্যান যদি শট খেলতে যান এবং বল অফ স্টাম্পের বাইরে প্যাডে লাগে, অনেক ক্ষেত্রে এলবিডব্লিউ হয় না। তবে তিনি শট না খেললে এবং বল পিচ করার পর ইমপ্যাক্ট স্টাম্পের লাইনে হলে সিদ্ধান্ত বদলাতে পারে। এই ব্যতিক্রমটি বিশেষ করে স্পিনারদের বিপক্ষে দেখা যায়, যখন বল অফ স্টাম্পের বাইরে পিচ করে ভেতরে ঢোকে।

ডিআরএস এলে বিষয়টি আরও প্রযুক্তিনির্ভর হয়। প্রথমে আল্ট্রাএজ বা সমজাতীয় প্রযুক্তি ব্যাটে স্পর্শ হয়েছে কি না যাচাই করে; এরপর বল-ট্র্যাকিং পিচ, ইমপ্যাক্ট এবং উইকেট দেখায়। কিন্তু বল-ট্র্যাকিং শতভাগ নিশ্চয়তার সীমায় না পৌঁছালে ‘আম্পায়ার্স কল’ মাঠের সিদ্ধান্ত বজায় রাখতে পারে। তাই ডিআরএস মানেই প্রতিটি সিদ্ধান্ত উল্টে যাবে—এমন নয়।

ডিআরএস ও আম্পায়ার্স কলের সহজ ব্যাখ্যা

কোথায় নিয়মটি টিকে থাকে?

এলবিডব্লিউ নিয়ম সবচেয়ে নির্ভরযোগ্যভাবে কাজ করে যখন বলের লাইন পরিষ্কার, ব্যাটের স্পর্শ আলাদা করা যায় এবং ইমপ্যাক্ট স্টাম্পের সামনে দৃশ্যমান থাকে। সোজা-সাপটা ইনসুইং ডেলিভারি, মাঝারি গতি এবং সামনের প্যাডে আঘাত—এই পরিস্থিতিতে মাঠের আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত সাধারণত দ্রুত আসে। তবে পিচের গতি, বলের সুইং এবং ব্যাটসম্যানের শরীরের ভঙ্গি বদলালে একই নিয়মের প্রয়োগ জটিল হতে পারে।

ব্যাটসম্যানের অবস্থান বদলালেও নিয়মের ভিত্তি বদলায় না। ডানহাতি ব্যাটসম্যানের অফ স্টাম্প এক পাশে, বাঁহাতির অফ স্টাম্প অন্য পাশে; তাই ‘অফ স্টাম্পের বাইরে পিচ’ নির্ধারণে ব্যাটসম্যানের ব্যাটিং দিক গুরুত্বপূর্ণ। বল লেগ স্টাম্পের বাইরে পিচ করলে সাধারণত নটআউট, কিন্তু মিডল ও লেগের মাঝামাঝি পিচ করে প্যাডে লাগলে এবং স্টাম্পে যেত বলে মনে হলে আউট হতে পারেন।

একটি ব্যবহারিক কিন্তু কম আলোচিত বিষয় হলো বলের উচ্চতা। প্যাডে লাগার সময় বল স্টাম্পের লাইনে থাকলেও যদি বলটি এত উঁচু দিয়ে যেত যে বেল ছুঁত না, তাহলে এলবিডব্লিউ নয়। একইভাবে বল লেগ স্টাম্পের বাইরে দিয়ে চলে গেলে, প্যাডে আঘাত জোরালো হলেও আউট নয়। এই কারণে শুধু “বল প্যাডে লেগেছে” দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া বিপজ্জনক।

বিশ্লেষকদের জন্য আরেকটি কাজে লাগা পদ্ধতি হলো আবেদনকে শব্দের বদলে ক্রমে পড়া: প্রথমে ব্যাটের শব্দ বা আল্ট্রাএজ, তারপর বলের পিচ, এরপর ইমপ্যাক্ট, শেষে উইকেট। ইএসপিএনক্রিকইনফো স্কোরকার্ডে অনেক সময় এলবিডব্লিউ আউটের বিবরণ থাকে, কিন্তু সেই সংক্ষিপ্ত বর্ণনা ডিআরএসের প্রতিটি স্তর দেখায় না। তাই স্কোরকার্ড, রিপ্লে এবং আইসিসির খেলার আইন একসঙ্গে দেখলে বিশ্লেষণ বেশি নির্ভুল হয়।

আপনি যদি ম্যাচ বিশ্লেষণ বা ক্রিকেট কৌশল আরও গোছানোভাবে পড়তে চান, এই সংক্ষিপ্ত রেফারেন্সটি কাজে লাগাতে পারেন।

আরও জানুন

কোথায় নিয়মটি ব্যর্থ হয়?

এলবিডব্লিউয়ের সবচেয়ে বড় ভুল বোঝাবুঝি হলো, প্যাডে জোরে বল লাগলেই ব্যাটসম্যান আউট। বাস্তবে নো-বল, লেগ স্টাম্পের বাইরে পিচ, ব্যাটে আগে স্পর্শ, স্টাম্পের বাইরে ইমপ্যাক্ট এবং অতিরিক্ত উচ্চতা—প্রতিটি আলাদা কারণে সিদ্ধান্ত নটআউট হতে পারে। তাই আবেদন যত জোরালোই হোক, চারটি শর্ত একই সঙ্গে পূরণ না হলে আউট দেওয়া যায় না।

কিছু পরিস্থিতি বিশেষভাবে বিভ্রান্তিকর:

  • বল ব্যাট ও প্যাডে প্রায় একই সময়ে লাগলে প্রযুক্তি নির্ধারণ করে কোনটি আগে হয়েছে।
  • বল অফ স্টাম্পের বাইরে পিচ করে, কিন্তু ব্যাটসম্যান শট খেলেননি—এখানে ইমপ্যাক্ট স্টাম্পের লাইনে হলে আউট হতে পারে।
  • বল প্যাডে লাগার সময় স্টাম্পের লাইনে থাকলেও পরে স্পিন বা সিমের কারণে বাইরে চলে যেত—বল-ট্র্যাকিং তার সম্ভাব্য পথ দেখে।
  • বলের প্রথম স্পর্শ ব্যাট ধরে থাকা গ্লাভসে হলে সেটি শরীরে লাগা হিসেবে সরলভাবে ধরা যায় না।
  • নো-বল হলে ব্যাটসম্যানের শরীরে বল লাগলেও এলবিডব্লিউ সিদ্ধান্ত দেওয়া যাবে না।

অনেক সময় আম্পায়ার্স কলকে দর্শক ভুল করে প্রযুক্তির ত্রুটি মনে করেন। আসলে এটি অনিশ্চয়তার সীমায় মাঠের সিদ্ধান্তকে অগ্রাধিকার দেওয়ার পদ্ধতি। ধরুন, বলের অর্ধেকের মতো অংশ স্টাম্পে লাগার সম্ভাব্য অঞ্চলে পড়ছে; তখন প্রযুক্তি মাঠের আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত পাল্টানোর জন্য যথেষ্ট নিশ্চিত নয় বলে ধরে নেওয়া হয়। এই কারণেই একই বলের ক্ষেত্রে নটআউট সিদ্ধান্ত বহাল থাকতে পারে, আবার আউট সিদ্ধান্তও বহাল থাকতে পারে।

এখানে একটি কম আলোচিত কৌশলগত শিক্ষা আছে। ব্যাটসম্যান যদি ফ্রন্ট-ফুটে এসে প্যাড শরীরের সামনে রাখেন, তিনি বলের পিচ বদলাতে পারেন না, কিন্তু ইমপ্যাক্ট পয়েন্ট ও বলের উচ্চতার বিচারকে প্রভাবিত করার মতো অবস্থান তৈরি করেন। বোলাররা তাই শুধু স্টাম্প লক্ষ্য করেন না; ব্যাটসম্যানের ভঙ্গি, শটের প্রস্তুতি এবং প্যাডের কোণও বিবেচনা করেন। ইনসুইং বোলিং ও ব্যাটিং প্রতিরোধ কৌশল

বল প্যাডে লাগার মুহূর্তের ক্রিকেট রিপ্লে, স্ক্রিনে পিচ-ইমপ্যাক্ট-উইকেটের রেখা স্পষ্ট

এটি ব্যবহার করে সিদ্ধান্ত নেওয়া কি সার্থক?

এলবিডব্লিউ বোঝার জন্য এই নিয়ম ব্যবহার করা সার্থক, কারণ এটি আবেগের বদলে যাচাইযোগ্য চারটি ধাপ দেয়: নো-বল, পিচ, ইমপ্যাক্ট এবং উইকেট। দর্শক, ব্যাটসম্যান, বোলার ও স্কোরার—সবাই একই ক্রমে ঘটনাটি বিশ্লেষণ করলে ভুল ব্যাখ্যা কমে। তবে ডিআরএসের আল্ট্রাএজ, বল-ট্র্যাকিং এবং আম্পায়ার্স কলকে আলাদা স্তর হিসেবে বোঝা জরুরি।

ক্রিকেট ভক্তের জন্য সবচেয়ে সহজ সিদ্ধান্ত-ফ্রেম হলো:

১. আগে দেখুন ডেলিভারি বৈধ কি না।
২. বল কোথায় পিচ করেছে, সেটি নির্ধারণ করুন।
৩. ব্যাটে আগে লেগেছে কি না যাচাই করুন।
৪. শরীরের আঘাত স্টাম্পের লাইনে হয়েছে কি না দেখুন।
৫. শরীর সরিয়ে দিলে বল স্টাম্পে লাগত কি না ভাবুন।
৬. ডিআরএস থাকলে প্রযুক্তির সীমা এবং আম্পায়ার্স কল বিবেচনা করুন।

প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে এলবিডব্লিউ শুধু আউটের নিয়ম নয়, একটি কৌশলগত চাপও। বোলার মিডল ও লেগ লাইনে বল রেখে ব্যাটসম্যানকে ব্যাট-প্যাডের ফাঁক বন্ধ করতে বাধ্য করেন; ব্যাটসম্যান আবার সামনের পা ব্যবহার করে বলের লাইন বদলানোর চেষ্টা করেন। পিচ যদি ধীর হয়, বল কম বাউন্স করে এবং প্যাডে আঘাতের উচ্চতা কমে; বাউন্সি পিচে একই লাইন স্টাম্পের ওপর দিয়ে চলে যেতে পারে। তাই একই বোলিং পরিকল্পনা চট্টগ্রাম, কলকাতা, লর্ডস বা দুবাইয়ে একরকম ফল দেয় না।

চূড়ান্তভাবে, আম্পায়ারের আঙুল ওঠার আগেই নিজের মাথায় তিন শব্দ বলুন—“পিচ, ইমপ্যাক্ট, উইকেট।” এই ছোট অভ্যাসটি এলবিডব্লিউয়ের বেশিরভাগ বিতর্ক পরিষ্কার করে। সিদ্ধান্তে সন্দেহ থাকলে রিপ্লে একবারে নয়, আলাদা আলাদা স্তরে দেখুন; ব্যাটের স্পর্শ, পিচের বিন্দু এবং উইকেটের কাল্পনিক রেখা একসঙ্গে মেলানোর চেষ্টা করবেন না।

আপনার পরের ম্যাচে এই তিন ধাপ ধরে এলবিডব্লিউ বিশ্লেষণ শুরু করুন।

আরও জানুন

ক্রিকেট নিয়মের পূর্ণাঙ্গ শিক্ষামূলক গাইড

Frequently Asked Questions

Q: ক্রিকেটে এলবিডব্লিউ কী?

A: এলবিডব্লিউ হলো এমন আউট, যেখানে বৈধ বল ব্যাটে আগে না লেগে ব্যাটসম্যানের শরীরে লাগে এবং বলটি স্টাম্পে আঘাত করত। বলের পিচ, শরীরে আঘাতের স্থান এবং সম্ভাব্য গতিপথ—এই তিনটি বিষয় মূল। নো-বল হলে এলবিডব্লিউ দেওয়া যায় না। ক্রিকেটে “লেগ বিফোর উইকেট” নামটি এসেছে কারণ ব্যাটসম্যানের শরীর স্টাম্পে যাওয়া বলকে আটকায়।

Q: এলবিডব্লিউ কীভাবে ধাপে ধাপে নির্ধারণ করা হয়?

A: প্রথমে নো-বল আছে কি না দেখা হয়, তারপর পিচ, ব্যাটের স্পর্শ, ইমপ্যাক্ট এবং উইকেটের সম্ভাব্য আঘাত যাচাই করা হয়। বল লেগ স্টাম্পের বাইরে পিচ করলে সাধারণত সিদ্ধান্ত নটআউট হয়। ব্যাটে আগে স্পর্শ থাকলে, অথবা বল স্টাম্পের ওপর দিয়ে চলে গেলে, আবেদন বাতিল হবে। ডিআরএস থাকলে আল্ট্রাএজ ও বল-ট্র্যাকিং এই ধাপগুলো যাচাই করে।

Q: এলবিডব্লিউ ও বোল্ডের মধ্যে পার্থক্য কী?

A: বোল্ডে বল সরাসরি স্টাম্পে আঘাত করে বেল ফেলে, কিন্তু এলবিডব্লিউতে শরীর বলের পথ আটকানোর কারণে সম্ভাব্য স্টাম্প-আঘাত বিচার করা হয়। বোল্ডের জন্য পিচ বা ইমপ্যাক্ট লাইনের শর্ত নেই। এলবিডব্লিউতে বল আগে ব্যাটে লাগলে সিদ্ধান্ত বাতিল হয়, কিন্তু বোল্ডে ব্যাটে লেগে স্টাম্প ভাঙলেও ব্যাটসম্যান আউট হতে পারেন। তাই দুই সিদ্ধান্তের প্রমাণের ধরন আলাদা।

Q: পা ক্রিজের বাইরে থাকলে কি এলবিডব্লিউ হয়?

A: পা ক্রিজের বাইরে থাকলেই এলবিডব্লিউ হয় না; বলের পিচ, প্যাডে আঘাতের লাইন এবং স্টাম্পে লাগার সম্ভাবনা নির্ধারক। ব্যাটসম্যানের সামনের পা ক্রিজের বাইরে থেকেও বৈধভাবে নটআউট থাকতে পারেন। আবার পা ক্রিজের ভেতরে থাকলেও বলের পিচ ও ইমপ্যাক্টের শর্ত পূরণ হলে আউট হতে পারেন। তাই শুধু পায়ের অবস্থান দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া ভুল।

Q: অফ স্টাম্পের বাইরে পিচ করা বল কি এলবিডব্লিউ হতে পারে?

A: অফ স্টাম্পের বাইরে পিচ করা বল সাধারণত এলবিডব্লিউ হয় না, তবে ব্যাটসম্যান শট না খেললে এবং বাকি শর্ত পূরণ হলে ব্যতিক্রম ঘটতে পারে। এই ক্ষেত্রে বলের ইমপ্যাক্ট স্টাম্পের লাইনে হতে হবে এবং বল স্টাম্পে আঘাত করত বলে বিচার হতে হবে। ব্যাটসম্যান শট খেলেছেন কি না, সেটি তাই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মাঠের আম্পায়ার ও ডিআরএস উভয় ক্ষেত্রেই এই ব্যতিক্রম বিবেচিত হয়।

Q: ডিআরএসে এলবিডব্লিউ সিদ্ধান্ত কীভাবে বদলায়?

A: ডিআরএস প্রথমে ব্যাটে স্পর্শ হয়েছে কি না, পরে বলের পিচ, ইমপ্যাক্ট এবং স্টাম্পে সম্ভাব্য আঘাত পরীক্ষা করে। আল্ট্রাএজ ব্যাটের সংযোগ শনাক্ত করতে সাহায্য করে, আর বল-ট্র্যাকিং বলের সম্ভাব্য পথ দেখায়। তবে সীমারেখার সিদ্ধান্তে আম্পায়ার্স কল থাকলে মাঠের সিদ্ধান্ত বহাল থাকতে পারে। তাই ডিআরএস শক্তিশালী যাচাই ব্যবস্থা হলেও প্রতিটি আবেদন উল্টে দেওয়ার নিশ্চয়তা নয়।

Q: এলবিডব্লিউ বোঝার সবচেয়ে সহজ উপায় কী?

A: “পিচ, ইমপ্যাক্ট, উইকেট”—এই তিন শব্দের ক্রম মনে রাখাই সবচেয়ে সহজ পদ্ধতি। প্রথমে বল কোথায় পড়েছে, এরপর শরীরে কোথায় লেগেছে, শেষে বল স্টাম্পে পৌঁছাত কি না দেখুন। তার আগে অবশ্যই নো-বল এবং ব্যাটে আগের স্পর্শ যাচাই করতে হবে। রিপ্লে দেখার সময় একই সঙ্গে সবকিছু বিচার না করে এক ধাপ করে দেখলে ভুল কম হবে।

এলবিডব্লিউয়ের নিয়ম আরও ভালোভাবে বুঝে প্রতিটি ম্যাচ বিশ্লেষণ করতে ক্রিকেট ভক্তের ক্রিকেটভিত্তিক তথ্যভাণ্ডার অনুসরণ করতে পারেন।

আরও জানুন

§
❦

ক্রিকেট ভক্ত · Editorial Archive

সম্পর্কিত নিবন্ধ